একসময় দক্ষিণ কোরিয়ায় গেমিংকে মাদক, জুয়া বা মদের মতো সামাজিক সমস্যার সঙ্গে তুলনা করা হতো। আজ সেই দেশেই গেমিং একটি রফতানিমুখী শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার বাজারমূল্য এখন হাজার কোটি পাউন্ড ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার দেশী গেমিং বাজারের আকার ১ হাজার কোটি পাউন্ড ছাড়িয়েছে। এর একটি বড় অংশই আসে বিদেশে গেম ও সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট রফতানি থেকে। আন্তর্জাতিক ব্যবসার দৃষ্টিতে গেমিং এখন দেশটির অন্যতম প্রধান কনটেন্ট শিল্প বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বড় এ রূপান্তরের পেছনে ভূমিকা রেখেছে দেশটির নীতিগত পরিবর্তন। এক দশক আগেও গেমিংকে আসক্তিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ ছিল। তবে গত কয়েক বছর সরকারের অবস্থান বদলেছে। গেমিংকে এখন একটি বৈধ পেশা ও কৌশলগত শিল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতির এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ বেড়েছে, বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে।
পরিসংখ্যানেই এর প্রমাণ মেলে। ২০১৯-২০২৩ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার গেমিং বাজার প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়ে ২২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি ওনে (১ হাজার ১৭০ কোটি পাউন্ডের সমপরিমাণ) পৌঁছেছে। একই সময় গেমিং রফতানি বেড়েছে ৪১ শতাংশ, যার মূল্য ১০ লাখ ৯৬ হাজার কোটি (৫৬০ কোটি পাউন্ড) ওন। দেশটির মোট কনটেন্ট রফতানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসে গেমিং খাত থেকে, যা কে-পপসহ অন্য সব সাংস্কৃতিক খাতকে ছাড়িয়ে গেছে।
দেশটির গেমিং শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয় এসপোর্টসকে। আয়ের হিসাবে এটি পুরো গেমিং শিল্পের তুলনায় ছোট হলেও এর প্রভাব অনেক বেশি। এসপোর্টস টুর্নামেন্ট, পেশাদার দল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রচার গেমের প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন গেম বাজারে পরিচিত করে তোলার প্রধান মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে এসপোর্টস।
করপোরেট বিনিয়োগও গেমিং ইকোসিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় বড় কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান পেশাদার দল স্পন্সর করছে, গড়ে তুলছে গেমিং একাডেমি। এসব একাডেমিতে মাসিক ফির বিনিময়ে প্রশিক্ষণ নেয় তরুণরা। তবে এখানে ঝুঁকিও কম নয়। প্রশিক্ষণার্থীদের মাত্র ১-২ শতাংশ পেশাদার পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
মানবসম্পদের দিক থেকে গেমিং শিল্প যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই কঠিন। শীর্ষ পর্যায়ের গেমাররা লাখ পাউন্ডের সমপরিমাণ বা তার বেশি আয় করতে পারেন। আবার এ খাতে ক্যারিয়ার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি। এ ঝুঁকি বিবেচনায় দেশটির সরকার এখন প্রশিক্ষণ সময়সীমা ও মানসিক সহায়তার মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার কথা বলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া গেমিংকে কেবল বিনোদন নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ রফতানিমুখী শিল্পে রূপ দিয়েছে। হাজার কোটি পাউন্ডের এ বাজার সঠিক নীতি, করপোরেট বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় থাকলে ডিজিটাল বিনোদনও বৈশ্বিক ব্যবসার শক্ত ভিত্তি হতে পারার উদাহরণ তৈরি করবে।
খবর ও ছবি: দ্য গার্ডিয়ান